শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- কবরস্থান থেকে মৃত মানুষের কংকালের হাড় চুরি করার ঘটনা নতুন নয়। রাজধানী ঢাকাসহ কয়েক জেলাতে ইতিপুর্বে এ ধরনের সংবাদ মিডিয়াতে প্রচার করা হয়েছিলো। কিন্তু তার পরও কংকালের হাড় চুরি রোধ করতে পারেনি কবরস্থানের দ্বায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা। এবার নারায়ণগঞ্জ পৌর কবরস্থানেও কংকালের হাড় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে করোনা যোদ্ধা টিম খোরশেদের অন্যতম সদস্য মো.আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ও দেড় মিনিটের দুটি ভিডিও ক্লিপ হাতে আসে অত্র প্রতিবেদকের কাছে। তাতে দেখা যায়,পৌর শ্মশান লাগোয়া রাস্তাটির পাশে ( খ্রিষ্টান কবরে যাওয়া প্রবেশ পথে) একটি কবর থেকে একটি চিকন হাড় মাটির নিচ থেকে তুলে এক যুবকের হাতে দিচ্ছেন আনোয়ার হোসেন। এ সময় কবরস্থানে কবর জিয়ারত করতে আসা কয়েকজন যুবকের দৃষ্টিগোচর হয়। কংকালের হাড়টি ঐ যুবকের হাতে দিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আনোয়ার হোসেন।
পরবর্তীতে কবর জিয়ারত করতে আসা উক্ত যুবকরা আনোয়ারের কাছ থেকে কংকালের হাড় নেয়া যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসা করলেই বেড়িয়ে আসে পুরো তথ্য। আব্বাস নামে সে যুবক জানান,তিনি অসুস্থ তাই সুস্থতা লাভের জন্য মৃত মানুষের হাড়টি নিয়েছেন। এটা দিয়ে ঔষধ বানাবো।
আমি আনোয়ার ভাইকে তার অফিস থেকে ডেকে নিয়ে আসি এবং তিনি এটা আমাকে দেন। এটার জন্য কত টাকা দিতে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আব্বাস জানান,আনোয়ার ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন কিন্তু আমি তাকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। কারন আমি মোট ৩ হাজার ৩শত টাকা নিয়ে এসেছি। ৩শত টাকা নিজের জন্য রেখে বাকি ৩ হাজার টাকা আনোয়ার ভাইকে দিয়েছি। কয়েকমাস পুর্বেও নাকি এখান থেকে কংকালের হাড় টাকার বিনিময়ে এ আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন উক্ত যুবক আব্বাস সেটাও স্বীকার করেছেন।
তথ্যসুত্রে জানা যায় যে, টিম খোরশেদের সদস্য আনোয়ার হোসেন করোনাকালীন সময়ে করোনায় আক্রান্ত নিহতের দাফন কাজ সম্পন্ন করতেন দলের অন্যান্য সদস্যদেরকে নিয়ে। করোনা চলে গেলেও অজ্ঞাত কারনে এখন পুরো কবরস্থানটি চষে বেড়াচ্ছেন এ আনোয়ার। সে সিটি কর্পোরেশনের কোন কর্মচারী নয়। শুধুমাত্র খোরশেদের সাথে সখ্যতা থাকার ফলেই নাকি কবরস্থানে অঘোষিত কর্তা হিসেবে পুরো কবরস্থানটি দেখভাল করছেন। টাকার বিনিময়ে কবর খোড়া থেকে শুরু করে সবকিছুই এখন তার নিয়ন্ত্রনে।
আনোয়ার হোসেন কবরস্থান জামে মসজিদের পেছনের অংশে কবরস্থানের পুরোনো বাঁশ এবং পৌর শ্মশানের দাহ শেষে রক্ষিত অর্ধপোড়া বাঁশ এবং হিন্দুদের মৃত্যুর পর বহনকরা খাট বা চৌকির কাঠ দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি সুসজ্জিত ঘর। অথচ শ্মশানের মাটি কবরস্থানে সাংসদ শামীম ওসমানের পরিবারের কবরের উপর ফেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিলো পুরো নারায়ণগঞ্জ জুড়ে। অথচ সেই শ্মশানের বাঁশ ও কাঠ দিয়েই আনোয়ার হোসেন কবরস্থানের উপরই গড়ে তুলেন বিশ্রামাগার। এ সুসজ্জিত বিশ্রামাগারটি নিয়ে কোন কথা হচ্ছেনা নগরীর জুড়ে। তবে কবরস্থানে আসা সাধারন মুসুল্লীদের দাবী এখানে তো কোন বিশ্রামাগারের প্রয়োজন হয়না।
কেনইবা এটা এখানে বানানো হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছেনা। এছাড়াও মাসদাইর পৌর কবরস্থানে থাকা পুরাতন গাছগুলোও কেটে বিক্রি করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে টিম খোরশেদের সদস্য আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে কবরস্থানের কবর থেকে মৃত মানুষের কংকালের হাড় বিক্রি করাটাকে গুরুতর অপরাধ বলে অভিমত করছেন সাধারন মুসুল্লী এবং ধর্মপ্রান মুসলমানগন। আমরা এ জঘন্যতম কাজের জন্য আনোয়ারের কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে এনসিসি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নারায়ণগঞ্জের ধর্মপ্রান মুসলিম সমাজ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান,আব্বাসকে আমি চিনিনা। তাছাড়া আমি হাড় বিক্রি করতে যাবো কেন। কবরস্থানের ভেতরে বিশ্রামাগার তৈরী করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমি সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমতি নিয়ে নিয়েই এটা তৈরী করেছি। তাছাড়া আমি তো রাতে এখানে ঘুমাইনা।